কুমিল্লা প্রতিনিধি:
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, মাদক প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ভোক্তা অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লার বরকামতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাগমারা গ্রামে এক গণসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ যুব ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ও সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী জোট, কুমিল্লার উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) সকালে বাগমারা ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন পাঠাগার আন্দোলন বাংলাদেশ ও সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী জোট কুমিল্লার প্রধান সমন্বয়ক বাংলাদেশ যুব ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের এরিয়া ক্যাডেট সার্জেন্ট মেহেদী হাসান আজিম।
সভাপতিত্ব করেন বাগমারা ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসার সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু মুছা ভূঁইয়া।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগমারা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মোজাম্মেল হক, সাবেক মেম্বার জাকির হোসেন, সফিকুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ যুব ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতি কাজী জুয়েল অভি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় টিম পাঠশালা আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য ও বাংলাদেশ যুব ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সমাজসেবক নবাব অনন্ত নিজাম ভূঁইয়া মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘জ্ঞানের আলো পাঠশালা’র মো. আবু মুছা এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ যুব ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহেল রানা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং জাতির ভবিষ্যৎকেও বিপন্ন করে তোলে। তাই মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত জনসাধারণের সম্মিলিত কণ্ঠে উচ্চারিত হয়—
“মাদক ছাড়ো, না হয় বাগমারা গ্রাম ছাড়ো।”
এ সময় গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে বাগমারা গ্রামকে মাদক, চুরি এবং সকল ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা ঘোষণা করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকাসক্তকে সামাজিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, মাদকাসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ বন্ধুর প্ররোচনা ও কৌতূহল। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল অতিথি, সমাজসেবী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ যুব ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী জোট, কুমিল্লার নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।