গোমতী ইয়ুথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন বাংলাদেশের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
গোমতী ইয়ুথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ পরিবারের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে “পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা” শীর্ষক এক সেমিনার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নূরমহল হোটেলের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গোমতী ইয়ুথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ আলম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সদ্য নজরুল পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বাচিক শিল্পী প্রফেসর ড. আলী হোসেন চৌধুরী।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কুমিল্লা জেলা-এর সভাপতি বদরুল হুদা জেনু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঠাগার আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সভাপতি, যুব সংসদ বাংলাদেশ-এর সভাপতি, এশিয়ান স্টেট জার্নাল-এর কান্ট্রি এডিটর, উদ্যোক্তা ও সংগঠক ইমাম হোসাইন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা কমার্স কলেজ-এর অধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কুমিল্লা জেলা-এর সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবীর মাসউদ।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-এনরোলমেন্ট সেক্রেটারি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী, গোমতী ইয়ুথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন বাংলাদেশের উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক অ্যাডভোকেট গাজী মো. ইকবাল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং গোমতী ইয়ুথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন বাংলাদেশের সম্মানিত উপদেষ্টা সাংবাদিক মো. রেজাউল করিম রেজা।
সেমিনারে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব, তরুণ সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখায় ৩৫টি সংগঠনকে সম্মাননা স্মারক, বই এবং নিমগাছের চারা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা পাওয়া সংগঠনগুলো হলো—
১. হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি
২. সুরপুর ব্লাড ডোনেশন
৩. মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন
৪. শেখ আরব ফাউন্ডেশন
৫. আহবান সংগঠন
৬. কালিরবাজার ব্লাড ব্যাংক
৭. আলোর মিছিল ব্লাড ব্যাংক
৮. রক্তবিন্দু ফাউন্ডেশন
৯. বুধইর যুব উন্নয়ন সংগঠন
১০. কুড়িঘর পূর্বপাড়া যুব সংগঠন
১১. স্বাধীন মানবকল্যাণ সংঘ
১২. স্বেচ্ছাসেবক ফোরাম
১৩. কালির বাজার ইউনিক ব্লাড ব্যাংক
১৪. Unity Of Gate 21
১৫. মানবিক সংগঠন মানুষের পাশে
১৬. বাখরাবাদ পরিবার
১৭. মানবতার কমলাপুর
১৮. প্রদীপ শিখা (একটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন)
১৯. নিশ্চিন্তপুর স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন
২০. মানবতার ফেরিওয়ালা
২১. মানব কল্যাণ সেবা সংস্থা
২২. হোসেনপুর প্রবাসী কল্যাণ ও যুব বন্ধু সংগঠন
২৩. Cumilla C.R.C Blood Donation Group
২৪. Laksam Blood Foundation
২৫. রক্তদানের অপেক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া
২৬. ৬৪ দুর্গাপুর সমাজ কল্যাণ ও ব্লাড সংস্থা
২৭. কালিকাপুর ইউনিয়ন ব্লাড ব্যাংক
২৮. ইচ্ছে পূরণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
২৯. আমরা আমরাইতো সমাজ সেবামূলক সংগঠন ও ব্লাড ডোনেটিং ক্লাব
৩০. বাড়ানী ব্লাড ফাউন্ডেশন
৩১. আপন ব্লাড ডোনেশন
৩২. Blood Donation Comilla (BDC)
৩৩. জগমোহনপুর প্রবাসী ফোরাম
৩৪. কালিকাপুর তরুণ যুব সংঘ
৩৫. আখাউড়া ব্লাড ফাউন্ডেশন (A.B.F.)
অনুষ্ঠানে সহযোগী সংগঠন হিসেবে মেহেরুন নেছা ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান রাকিব এবং হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. সিয়াক-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এছাড়াও গোমতী ইয়ুথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন বাংলাদেশের সদস্যদের মধ্যে রমজান ফারাবী, কায়েস, তোফায়েল ও নাফিজ-কে সংগঠনের কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও সামাজিক উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশ রক্ষায় গোমতী ইয়ুথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।